লোকে যারে বড়ো বলে : বয়ঃসন্ধিকালের অনিবার্য ক্ষোভে প্রশ্নবিদ্ধ সংস্কার ও প্রশ্নাতীত সংস্কৃতি।

 –মানালি মৌলিক


জে.স্ট‍্যানলি হলের উক্তি অনুযায়ী, "বয়ঃসন্ধি হলো জীবনের ঝড়ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ সময়"। অপরদিকে আমাদের প্রিয় কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য বলছেন, "আঠারো বয়সের নেই ভয় / পদাঘাতে চায় ভাঙতে পাথর বাধা, / এ বয়সে কেউ মাথা নোয়াবার নয় -- / আঠারো বছর বয়স জানে না কাঁদা।" 

তাই একইসঙ্গে শিক্ষামনোবিজ্ঞানী ও কবির বক্তব‍্যকে পর্যালোচনা করে প্রথমে দুটি সংগৃহীত ঘটনায় চোখ রাখা যাক। অল্প বয়সের উদ্ধত প্রশ্নের প্রবণতা, ধোঁয়াটে ক্ষোভ ও প্রকৃত সত‍্যের পথে অগ্রসর হবার বিষয়টি তার পরে আরো গভীরে জানা যাবে।

 ঘটনা ১ : তিথি (নাম পরিবর্তিত) বাড়ি ফিরেছে স্কুল থেকে। খাতা খুলে দেখতে দেখতে ওর মা বললেন, 

"Unit test-এ তো highest marks এসেছে! Very good!"

তিথি বললো, "হ‍্যাঁ মাম্মাম, আমি আর দিয়া দুজনেই হায়েষ্ট পেয়েছি। আমি ওকে ২ মার্কসের উত্তরটা বলে দিয়েছি।"

চোখ অগ্নিবর্ণ হয়ে উঠলো তিথির মায়ের।

- "কেন? তুমি কী দিয়ার টিচার? যদি এটাতে ও First হয়ে যায়? তখন টের পাবে একবার! বোকা গাধা একটা!"

মনে রেখো, তোমার best friend পর্যন্ত তোমার কম্পিটিটর। অর্থাৎ সবাই- সব্বাই তোমার প্রতিদ্বন্দ্বী।


ঘটনা ২ : রোহনদের স্কুলটা যেন ভারতবর্ষের এক ক্ষুদ্র সংস্করণ। কেবল নামকরা বিদ‍্যালয় বলেই নয়, ওদের শিক্ষার মান ও ভাষাগত সাহায‍্যের জন‍্য প্রায় প্রতিটি অঙ্গরাজ‍্য থেকে ছাত্রছাত্রী আসে। যাদের বাবা বদলির চাকরি করেন, তারা সংখ‍্যায় আরো বেশী। সেই গল্পই রোহন করছিলো তার বাবার সঙ্গে।

রোহন : বাপী জানো, বিক্রম লামা আমার বন্ধু। ওরা দার্জিলিং-এর লোক। দারুণ ক্রিকেট খেলে বিক্রম।

বাবা : ভালো। কিন্তু বেশী মিশতে যেওনা ওর সঙ্গে। পাহাড়ী লোকজন চিনা-চিনা দেখতে হয়। তাই না?

রোহন : বাপী, মিনতি আইয়ার নতুন ভর্তি হয়েছে। ওরা সাউথ ইন্ডিয়ান। ভীষণ ভালো মেয়ে মিনতি।

বাবা : ভালো। কিন্তু বাবা, দক্ষিণের লোককে বলে মাল্লু। ওরা হলো রাবণের বংশধর। কেমন ধোসা-ইডলি খায় আর তিলক কাটে। খুব সমস‍্যার।

রোহন : সুতপা সিং কিন্তু আমাদের ক্লাসের ক‍্যুইজ চ‍্যাম্পিয়ন।

বাবা: হ‍্যাঁ, কীকরে? জেনেরালি ওরা মাথামোটা হয়। বলে কেন, পাগল না পাঞ্জাবী?

রোহন : বাপী, অলোক কিস্কু আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড।

বাবা : ওহো, ঝাড়খন্ডাই? ওরা একটু শিকারী ধরনের হয়। বাবু, সবার সঙ্গে মিশবে না কিন্তু.....

রোহন : তাহলে ভালো কে, বাপী?

রোহন তার প্রশ্নের উত্তর পেয়েছিলো কিনা জানিনা। তবে এটা নিয়ে এখন একটু পড়াশোনার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে সবার। কারণ, অনাদিকাল থেকে দেখেছি মানুষ কিছু না পারলে অবশেষে দুটো বিষয়কে দোষ দেয়। 


১) অদৃষ্ট ২ ) জেনারেশন (generation)

যা দৃষ্টপূর্ব নয়, তা নিয়ে বিতর্কে যাওয়া অপ্রয়োজনীয়। এখন প্রশ্ন হলো, জেনারেশন (generation) বা প্রজন্ম কোনো আকাশ থেকে পড়া বস্তু নয়। একটি শিশু যখন ভূমিষ্ঠ হয় তার কাছে নতুন পৃথিবীর রূপ-রস-বর্ণ-গন্ধ সবই অচেনা থাকে। হৃদয় আর অভিজ্ঞতার ভান্ডার দুই-ই শূন‍্য (Tabula rassa), মন থাকে একটি সাদা পাতার মতো। তার পূর্ববর্তী প্রজন্ম, পরিবার প্রথম শিক্ষাগৃহ এবং তারপরে ধীরে ধীরে স্কুল কলেজ ও সমাজের সঙ্গে পরিচিতি ঘটে। তাই একটা প্রজন্মের বেড়ে ওঠার মাটি হিসাবে যেমন এতোদিনের সমাজ-পরিবেশ-রাষ্ট্র সব কাজ করে, তেমনই প্রজন্ম বলতে কোনো universal entity চিহ্নিত করা যায় না। ধরা যাক, ১৭ বছরের এক কিশোরী। কলকাতার কোনো নামী স্কুলে পড়ে ও উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান। তার চিন্তাধারা, পড়াশোনা ও অভ‍্যাস কখনই ওই একই বয়সের পুরুলিয়ার প্রত‍্যন্ত গ্রামের কোনো কিশোরীর সঙ্গে মিলবে না। আবার অসমের চা বাগানের কোনো তরুণ শ্রমিক কি বিন্দুমাত্র মিলতে পারে লং - ড্রাইভে বাইক ছোটানো কলকাতার যুবকের সঙ্গে? সেই বিভাজন কিন্তু বাস্তব এবং অবশ‍্যই মনুষ‍্যসৃষ্ট। তাহলে একবাক‍্যে "এই প্রজন্মটাই এরকম" বলা কোনোভাবে যুক্তিসম্মত হলো না। আর সময়ের হিসাবেও একটা গোটা প্রজন্ম চিহ্নিত করা যায় না। মাঝে সময়, পরিস্থিতি ও প্রযুক্তির চড়াই- উতরাই থাকে। তাই 'একই জেনারেশনের মানুষ' বলে সময়গত ধারণা চাপিয়ে দেওয়া গেলেও বাস্তবের সংঘর্ষযুক্ত সংজ্ঞা এই 'প্রজন্ম' শব্দটার নেই।

যাকগে, এখন ফিরে আসি সেই মাটির কথায়। যার থেকে খাদ‍্য ও জল নিয়ে এই জেনারেশন নামক গাছটা বেড়ে ওঠে। সেটা অবশ‍্যই সামাজিক পরিমন্ডল ও আর্থিক অবস্থাসহ পূববর্তী প্রজন্মের দেওয়া বৌদ্ধিক ধারণাগত সম্পদ। যা সমৃদ্ধ যেমন করতে পারে, তেমনই বিভ্রান্তও করতে পারে। কারণ কথাতেই আছে, "ছোটোরা যা দেখবে, তাই শিখবে।" 

শিক্ষাবিজ্ঞান (education) -এর ভাষায় এই 'দেখে শেখা' নিয়ে গবেষকদের অনেক তত্ত্ব আছে। তার একটা খুব প্রচলিত যা সাহায‍্য করে ভাষার বিকাশে। যখন শিশুকে আঙুল দেখিয়ে কোনো মহিলার উদ্দেশ‍্যে 'ঠাম্মা' বা 'দিদান' এরকম বলা হয় সে বুঝতে শেখে ওই মহিলাটি তার ঠাকুমা বা দিদা এরকম সম্পর্কিত হন। এটা হলো একদম ছোটোবেলাকার (infant stage) শিখনবৃত্তান্ত। তাই মূর্ত আলোচনা হয়ে গেলো। বিমূর্ত বুদ্ধির প্রকাশ কিন্তু বড়োদের উপর প্রচন্ডভাবে নির্ভরশীল। তাই একবার যদি, "ঠাকুর পাপ দেন' বলা হয় তাহলে হয়তো বিক্ষুব্ধ আঠারো বছরে সে অশ্বারোহী গ্রীবাভঙ্গীতে প্রশ্ন করতে পারে, "ঠাকুর কে?" কিন্তু প্রশ্নের গঠন যদি হতো, "পাপ কী ও কেন?" তবে তা তার কাছে জীবনব‍্যাপী শিক্ষা হয়ে থেকে যেতো। সংজ্ঞার গুণেই তা হতো সুন্দর, অদৃশ‍্য সত্তার ভার বইতে হতো না। কারণ বাস্তবের সঙ্গে পূর্বাপর সংঘাতে সেই মানসমূর্তি চূর্ণ হলেও তার অন্তরীণ শিক্ষার ভঙ্গুরতা অনেক কম। তাই এরসঙ্গে কেবল পড়াশোনা নয় বরং ধারণা গঠন, কল্পনা, চিন্তার শক্তি, যুক্তি নির্মাণ সব জড়িয়ে আছে। এসব ছোটোদের মধ‍্যে সঞ্চারিত করতে হলে মনোবিদ বা ভয়ানক উচ্চশিক্ষিত হতে হয় না, বরং একটা প্রকৃত মানুষ হতে হয়। মনে পড়ে, করোনাকালে পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্রকে কোনো ভুল করায় শাসন করেছেন তার গৃহশিক্ষক, সে নিয়ে কথা কাটাকাটি হতে বাচ্চাটির বাড়ির লোক বলে, "অতো পন্ডিত হলে তিনি পড়াতে আসতেন না, দারুণ প‍্যাকেজের চাকরি করতেন। যত্তোসব আঁতেল!"

এই ঘটনাটা সোশ‍্যাল মিডিয়ার দৌলতে দু-তিনবছর আগে প্রায় সবার জানা হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, অল্পবয়স্কদের মুখে অ‍্যাডাল্ট জোকস্ বা কুৎসিত কথা শুনে আজকাল গুরুজনরা তেমন রাগ দেখান না। ওসব আজকাল হয়েই থাকে। কিন্তু কেউ তো কাগজ পড়ে প্রশ্ন করতে পারে পুরুলিয়া বা কালাহান্ডির মানুষগুলোর বিষয়ে? তখন প্রত‍্যুত্তর আসে, "মাথায় অনেক কিছু ঢুকে গেছে!" অর্থাৎ এগুলি নিষিদ্ধ শব্দ, তাই তো? 


আমরা ছোটো এবং চারস্তম্ভ দেখে স্তম্ভিত

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কর্তার ভূত' পড়লে শেষদিকে দেখা যায় ভূতের রাজ‍্যের এক প্রজা চুপিচুপি জোড়হস্তে প্রশ্ন করে,

"কর্তা, এখনও ছাড়বার সময় হয়নি?"

স্বাধীনতার ৭৮ তম বর্ষপূর্তিতে এসে colonial divide and rule policy সম্পর্কে ঠিক একই প্রশ্ন রয়ে গেলো। তবে কর্তা যদি ছেড়েও দেন, ভূতের নায়েব কি ছাড়বেন? প্রতিটি স্বাধীনতা দিবস, প্রজাতন্ত্র দিবস, নেতাজী জন্মজয়ন্তীতে দেশপ্রেমের জোয়ার আসে, সন্ধ‍্যের দিকে নেমে যায়। বাকি সময়ে ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ-জাত -ভাষা-কথা-পছন্দ-শিক্ষা-খাদ‍্যাভ‍্যাস-চুলের ষ্টাইল-নখ রাখা উচিত কিনা- ভূত আছে না নেই - প্রাচীন না নব‍্য - সাচ্চা না ঝুটা গরীব না তস‍্য গরীব-বাংলা মিডিয়াম না ইংরেজি মিডিয়াম - চিকেন না মটন - পোশাক সুতির না রেশমের পিঁয়াজ না অ‍্যাভোকাডো সহ আর কী কী বিষয় নিয়ে গোষ্ঠীতে গোষ্ঠীতে ধুন্ধুমার চলে তার তালিকা দিতে গেলে এ প্রবন্ধ শেষ হবে না। ইতিহাসে আমরা পড়ি, পরিবর্তন আসে ও সময় বদলায়। যদি বদলায় তাহলেই বা কী হবে? রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে এক সরকার গিয়ে আরেক সরকার এলো, রাষ্ট্র ও রাজনীতির শতাধিক পরিবর্তন এলো কিন্তু এই পচাগলা সমাজব‍্যবস্থা আর দুর্গন্ধময় সংস্কৃতির কী হবে? আঠারো যে মাথা তুলতে চায় এই ঘনকৃষ্ণ আচ্ছন্ন করা সুরার বিরুদ্ধেই। তাই তারা প্রচলিত প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার কথা যা শোনে, তাই আবৃত্তি করে যায়। ঘটমান বর্তমানের কদর্যতা পেরিয়ে মূল অমৃতের পাত্র পরিবেশনই বা কে করেছে কবে তাদের কাছে? সমাজ - সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে তো আজ বিদ্রোহী কবির ভাষাই প্রযোজ‍্য : 


        "শতদল সেথা শতধা ভিন্ন

          শস্ত্রপাণির অস্ত্র ঘায়ে,

           যন্ত্রী সেখানে সান্ত্রী বসায়ে 

           বীণার তন্ত্রী কাটিছে হায়!"


ভেবে দেখলে বোঝা যাবে, এই অচলায়তনের বাহক হিসাবে প্রধানতঃ চারটি স্তম্ভ রয়েছে। প্রথমটি ক্ষমতাধর রাষ্ট্র, 

দ্বিতীয় - কুসংস্কার ও বিধিনিষেধ (কাজের ক্ষেত্রে নেই, অকাজে আছে),

তৃতীয় 'আজকের বুদ্ধিজীবী'

 এবং চতুর্থটি হলো প্রথাগত ভালোমন্দের বিভাজন। এটি সব বিভাজনের উপরে এবং অধিকাংশ সময়েই যুক্তিহীন। শৈশব থেকে যেসকল ধারণাকে দার্শনিক Nietzsche বর্ণিত 'উটের মতো বহন' করে চলা হয় তার বিরুদ্ধে নবযৌবন দ্বিতীয় পর্যায়ে বিরোধ ঘোষণা করে সিংহের মতো। কিন্তু কেবল সবকিছুর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ মূল সমস‍্যা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না।একদম সাধারণ একটা উদাহরণ দিলে বোঝা যাবে,

"হীরে আর কাঁচের পার্থক্য আছে।"


বেশ। কিন্তু শিল্পবিল্পবের অন‍্যতম প্রধান আবিষ্কার কাঁচ। ইংল‍্যান্ড যখন workshop of the world হয়ে উঠছে, তখন কাঁচ ছাড়া প্রযুক্তির অগ্রগতি সম্ভব হতো না। রজার বেকন তৈরী করলেন আতশ কাঁচ, টেলিস্কোপ মহাকাশের রহস‍্য ধরে দিলো, মাইক্রোস্কোপ অণুজীবের জগৎ সম্পর্কে পথ দেখালো। টেষ্ট টিউব, স্লাইড, বিকার, ফ্লানেল, থার্মোফ্লাস্ক, ইলেকট্রনিক্স -- কীসে কাঁচ লাগে না? কেমিষ্ট্রির কোনো আবিষ্কার কাঁচ ভিন্ন করাই যাবে না। তাহলে সভ‍্যতা ও শিল্প যেখানে কাঁচ ভিন্ন অচল সেখানে উপরের বক্তব‍্যটি অংশত অর্থহীন। হীরের এই ব‍্যাপক প্রয়োগযোগ‍্যতা আছে? সাজিয়ে রাখা আর গহনার শোভাবৃদ্ধি ছাড়া হীরে কটা কাজে লাগে? কাজের প্রয়োজনকে অবহেলা করে পদমর্যাদাকে গুরুত্ব দেওয়ার এই জায়গাটি আমাদের ভবিষ‍্যত জীবনের কর্মক্ষেত্র ও সরকারি চাকরীর তুলনার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে Superior education ( উন্নত শিক্ষা) ও Excellent education ( প্রায়োগিক শিক্ষা) বলে দুটি ভাগ আছে। গবেষক ড‍্যানিয়েল মার্কোভিটস্ ওনার 'Meritocracy Trap : How America's Foundational Myth Feeds The Inequality, Dismantles The Middle Class And Devours The Elites" নামক বইটিতে সমালোচনা করেছেন এই superior education কে সর্বোচ্চ হিসাবে দেখার মানসিকতাকে। অপরদিকে আমদের vocational training পড়তে অনেক ছাত্রছাত্রী উঠেপড়ে লাগে, কিন্তু পথ তাদেরও ততোটাই কঠিন যতোটা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ক্ষেত্রে কঠিন। পড়াশোনা জীবনের একটা প্রাপ্তি, একথা অনস্বীকার্য। যারা পড়তে পারে না তারা এক পরম সৌভাগ‍্য থেকে বঞ্চিত ব‍্যবস্থারই দোষে। কিন্তু যারা শিক্ষিত হচ্ছে, তারাও হতাশ হয়ে পড়ে একদিকে বেকারত্ব ও দুর্নীতি দেখে (প্রথম স্তম্ভ- রাষ্ট্র) দ্বিতীয়বার ভাগ‍্য- জ‍্যোতিষী -চাকরীর আশায় গ্রহরত্ন ধারণ দেখে চিন্তিত হয় (দ্বিতীয় স্তম্ভ - কুসংস্কার), পরে বিভিন্ন প্রোথিতযশা influencer ও তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের হাজারটা তত্ত্ব ও রক্ত গরম করা উক্তি শোনে, "চাকরী জীবনের শেষ লক্ষ‍্য নয়, সফল হবার অজস্র পথ আছে" (যার অধিকাংশই কষ্টকল্পনা ও অদ্ভুত) অথবা, "লাথি মারো এই সিষ্টেমকে" (নিজেরা আদৌ মারেন না) ইত‍্যাদি। পরিশেষে, সর্বশেষ স্তম্ভ হলো ভালো-মন্দের বিভাজন যা প্রতিক্ষেত্রে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করে তোলে। জানি না এই চার স্তম্ভের স্তম্ভিত দশা থেকে যৌবনের মুক্তি কবে! কোনোদিন তা হলে হয়তো Nietzsche বর্ণিত সিংহসম বিদ্রোহী আত্মার স্তর পেরিয়ে সর্বোচ্চ স্তর শিশুর মতো হয়ে উঠতে পারবো আমরা। সেটিই হবে আঠারোর নতুন ভোর রচনা করার চরম লক্ষ‍্য। এ নিরন্তর সংশয়ের সঙ্গে যুঝতে যুঝতে সেই সুধারসের সন্ধানেই প্রবৃত্ত হবার দিন এসেছে।


Comments

Popular Posts