বাবা, সবই কি আমার দায়?
–যুধাজিৎ হোড়
বাবা, আমার খাবার চাই, বড্ডো খিদে পেটে।
আচ্ছে দিনের জুমলা খেয়ে, খিদে কি আর মেটে?
সকাল থেকে শুনছি দুর্গা, কালী, রাম নাম,
তোমার নেই চাকরি, খাবারের বাড়ছে দাম।
বাবা, একটা কোচিং-এর আমার ভীষণ দরকার,
নয়া শিক্ষা নীতি দেশে আনছে যে সরকার।
বিশাল সব ক্যাম্পাস, তবে প্রাইভেট মালিকানা,
পড়বে শুধু বড়লোকেরাই, আমাদের পড়া হবে না।
বাবা, এবার পুজোয় একটা শার্ট কিনে দাও,
যদি মালিক দয়া করেন, বোনাসটুকু পাও।
দুটো শার্ট দুটোই ফাটা, ছেঁড়া মায়ের শাড়িটাও,
গা ঢাকতে টাকা লাগে, আমরা কি সভ্য তাও?
বাবা, আমার কাল থেকে গায়ে ভীষণ ব্যথা,
জ্বর ছাড়িয়েছে একশো, তুলতে পারছি না মাথা।
ডাক্তারবাবুর পা ধরব, দেখে দেন যদি ফি ছাড়া,
চিকিৎসাও বিক্রি হয়, গরিবরা সব পড়ে মারা।
বাবা, তুমি ছয় মাসের বাড়িভাড়া কেন দাওনি?
বাবা, তুমি কয়েক মাস কাজে কেন যাওনি?
কালকের মধ্যে আমাদের ছেড়ে দিতে হবে বাড়িটা,
মাথা গুঁজতে ভিক্ষে করতে হবে, কী করে পারি তা?
বাবা, আমার হাত কাপে, কান্না পায়, মন খারাপ হয়,
অবসাদে আচ্ছন্ন আমি, আমার বাঁচতে লাগে ভয়।
এবার মরতে চাই আমি, আর আশা ভরসা নেই,
এই পরাজয়ের সব দায় কি নিতে হবে আমাকেই?
বাবা, আমাকে দেখে লোকে হাসে, বন্ধুরা পাগল বলে,
আমি নাকি লড়তে জানি না, অলস হেরে যাওয়াদের দলে।
শহরের এক সফল বন্ধু বলল, আমার নাকি থেরাপি দরকার,
আমার দোষেই পাগল আমি, পচছে না সমাজ বা সরকার!

Comments
Post a Comment